মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

হাজার মাইল দূরে

না কেউ ছিল, না কেউ আছে
যে তোমার মত ভালোবাসে।
তুমি ফিরে এসো প্রিয় আমার জীবনে।
যত পথ হেটে গেছি
এই আলো ঝলমলে শহরে
ততই তোমার প্রিয় মুখ পড়ে মনে।
তারাজ্বলা রাত কেটে গেছে
প্রিয়তমা তোমার বিহনে
তুমি আসবে কবে ফিরে এই হৃদয়ে
এই মনে এই হৃদয়ে
এই মনের গোপন বাগানে
তুমি ফুল হয়ে ফুটবে কোন শুভক্ষনে।


('500 Miles' গানটিকে বাংলা ভাষায় গাওয়ার চেষ্টা থেকে পাওয়া)

বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আমার ব্যক্তিগত অন্ধকার

আমার পেছনে ছায়ার মত একটা কালো অন্ধকার 
অনেক তীব্র আলো এবং রৌদ্রক্লান্ত দিন পার করেও
সে আবার ফিরে আসে তার জায়গায়।
নক্ষত্রের তেজ কিংবা মানুষের ব্যবহারিক অভিজ্ঞান,
এই কঠিন ও জটিল অন্ধকারের পায়নি সন্ধান।
 শুধু আমি ও আমার মত কয়েকজন সেই অন্ধকারের
থেকে পালিয়ে যাইনি - তাই আমাদের
পোষ মানা বেড়ালের মত, এই পৃথিবীর জমে থাকা অন্ধকার যত
সন্তর্পণে আমাদের গায়ে লেগে থাকে।
মানুষের চেনা পৃথিবী ছাড়া আরেক যে পৃথিবী আছে
যেখানে আলো এবং অন্ধকার অনেকটাই মিশে গেছে,
এই পৃথিবীর থেকে মুক্ত পাখির ডানার মত
যেখানে উড়ে বেড়ায় অন্ধকার
যেখানে নেই কোন নাম নিশানা
ভাষা, বিজ্ঞান কিংবা সভ্যতার,
সেখানেই কি জন্ম, আমার ঠিক পেছনে তাকালেই
সেই অজর, অমর, অবিভক্ত অন্ধকার।
হয়তো আমাকে নিয়েই যাবে এই গাছ, মাটি, ফুল
মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি ভেঙে
জীবনের মত চঞ্চল হয়ে, মৃত্যুর মত অমোঘ ঠিকানায়।
তার আগেই আমি আমার ব্যক্তিগত অন্ধকার থেকে
কয়েক টুকরো ছড়িয়ে দিতে চাই
এই ভীড়ে চাপা শহরের রাস্তায় কিংবা
মরে যাওয়া গ্রামের পুকুর কিংবা ডোবায়
একটি গানের কথায়, সুরে কিংবা একটি বিপ্লবী কবিতায়,
দুর্বোধ্য কোন এক সিনেমার নায়িকার চোখের ভাষায়।

রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

এই সময়

ফ্যান্টাসির ভিতর বাস করি দিন ও রাত
কানাগলির ভিতর থেকে নি:শ্বাসের চিৎকার ভেসে আসে
স্মরনকালের সেরা বাতাসের তেজ আসে
বিকেল ভেঙেচুরে হয়ে যায় জলপ্রপাত।
যেখানে নদী ছিল পথরেখার মত স্পষ্ট
যেখানে প্রাণের ভ্রূণ ছিল অগনণ
সেই সরল ও উর্বরা জীবনের দিকে যেতে
গোপন ও অনৈতিক স্বপ্ন দেখে মন।
সারি সারি বেঈমান বিক্ষোভের ভীড়ে
আর বক্তৃতামালার অপব্যবহারে
কেমন একটা পচা ঘ্রাণ ভেসে আসে
টের পাই ক্ষত ফুটে আছে সমাজের বুকচিরে।

বেনামী ১

যেদিন ধরা পড়ে যাবে তুমি এই অসীম শুন্য আকাশের ভেতর
হাওয়া বাতাস ভেঙে জলরঙ মেঘে ভেসে
বলবেনা কেউ কিভাবে কতটা স্বপ্ন দেখার ভিতর বিষ মিশে আছে

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০১৫

বিষ

আমাদের রক্ত ক্ষয়ে যায় শিরায় উপশিরায় অস্পৃশ্যের বন্যায়
মগজে জট পাকিয়ে ঠেসে থাকে নষ্ট স্মৃতির বাটখারা
জগৎজুড়ে ভয়ের দাপট ছেঁয়ে যায় সাহসী বক্তাদের রক্তগঙ্গায়
ঘুমন্ত পৃথিবীভরা দানব রাতের কোলে কেউ কেউ রয়ে যায় ঘুমহারা।  

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

অনন্ত সঙ্গীত

জ্বলন্ত অন্ধকারের বুকে পিঠে বয়সের ভারের মত
নুয়ে আছে ঘুমহারা সময়ের কলকব্জা
নড়ে চড়ে গেড়ে বসে হৃদয়ের মস্ত উঠোনজুড়ে
প্রায় মরে যাওয়া আলোর শেষ রেখাকে করে পরাহত।

নাওয়া,খাওয়া,ঘুম নিত্যনৈমিত্তিক যত আচার বিচার
সবকিছু অনন্ত সময়ের কেবলি অর্থহীন ব্যবহার
পৌষের শেষে ন্যাড়া হয়ে যাওয়া গাছগুলোর নিঃশব্দ আর্তনাদ
গ্রীষ্মে,বর্ষায় চকচকে সবুজের আশ্বাস নেই - কেমন এক হাহাকার।

বিশ্রামের ক্লান্তিভরা বিকেলবেলায় অলস এক চায়ের পেয়ালায়
রিনিঝিনি ঝংকার বাজে একাকী বিমর্ষ
উত্তুরে হাওয়া দেওয়া রাতে সেই সব জমে থাকা অনুভূতির বাষ্প
না বলা কথাগুলোর স্তুপের সাথে মিলে মিশে যায়।

কবে হবে সেই অযান্ত্রিক জীবনের মধুরিমাময় সঙ্গীত
ফিকে হয়ে আসা সৈকতের ম্লান ঢেউয়ের মত
গতিময় তরঙ্গের ভাঙনে ভাঙনে যে সুর লেখা আছে
জড়োসড়ো হয়ে যাবে সব,হবে সেই ঐশ্বর্যবান সুরের প্রতি অবনত।  

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

ঘাসফড়িংয়ের ডানা

বাড়ীর সামনে উঠান পেছনে নদী, অবাক কচুরিপানার পাশে ফুটে থাকা শাপলা ফুল
কত বছর আগে ফেলে আসা আমার গ্রামের স্কুল
ছোট্ট পেয়ারা গাছটার পাশে কুটোর পালা, কোল ঘেঁষে মেঠোপথ ধুলো মাটি আর ঘাস
শৈশবের খয়েরি বিকেলে মরে আসা রোদের দীর্ঘশ্বাস
তালাবদ্ধ আলমারির দুর্বোধ্য বই, ঘর গেরস্থালি দিদিমার আঁচলে থাকা চাবির গোছা
বুকের গভীরে জমে থাকা স্মৃতির ধুলো হবে না কখনো মোছা
ঘুমের ভেতরেও একটু জেগে থাকা যাত্রাপালার ঘ্রাণ, আমবাগানে নিষিদ্ধ কিছু একটা শেখা
একমাথা কালোচুলে ঢাকা সেই মুখটা শেষবার দেখা
মাতাল অন্ধকার উথাল বাতাসে বাংলার শেষ নবাব, হঠাৎ বর্ষায় পুকুরপাড়ে কইমাছের নাচ
মহোৎসবের খিচুড়ীর লতানো শক্ত ঝাঁঝ
একা একা কল্পনার পিছু পিছু ধু-ধু করা বিল, লাল নীল ডানামেলা পদ্মা ফড়িং
এত এত মানুষের কাছে জন্ম জন্মান্তরের ঋণ 
অনেক অনেক বসন্ত পেরিয়ে গেছে, ডানা মেলে এখন আর ছুটি না
শেষ একবার কি উড়ে যাব, ধরব ঘাসফড়িংয়ের ডানা?