মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০১৫

বিষ

আমাদের রক্ত ক্ষয়ে যায় শিরায় উপশিরায় অস্পৃশ্যের বন্যায়
মগজে জট পাকিয়ে ঠেসে থাকে নষ্ট স্মৃতির বাটখারা
জগৎজুড়ে ভয়ের দাপট ছেঁয়ে যায় সাহসী বক্তাদের রক্তগঙ্গায়
ঘুমন্ত পৃথিবীভরা দানব রাতের কোলে কেউ কেউ রয়ে যায় ঘুমহারা।  

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

অনন্ত সঙ্গীত

জ্বলন্ত অন্ধকারের বুকে পিঠে বয়সের ভারের মত
নুয়ে আছে ঘুমহারা সময়ের কলকব্জা
নড়ে চড়ে গেড়ে বসে হৃদয়ের মস্ত উঠোনজুড়ে
প্রায় মরে যাওয়া আলোর শেষ রেখাকে করে পরাহত।

নাওয়া,খাওয়া,ঘুম নিত্যনৈমিত্তিক যত আচার বিচার
সবকিছু অনন্ত সময়ের কেবলি অর্থহীন ব্যবহার
পৌষের শেষে ন্যাড়া হয়ে যাওয়া গাছগুলোর নিঃশব্দ আর্তনাদ
গ্রীষ্মে,বর্ষায় চকচকে সবুজের আশ্বাস নেই - কেমন এক হাহাকার।

বিশ্রামের ক্লান্তিভরা বিকেলবেলায় অলস এক চায়ের পেয়ালায়
রিনিঝিনি ঝংকার বাজে একাকী বিমর্ষ
উত্তুরে হাওয়া দেওয়া রাতে সেই সব জমে থাকা অনুভূতির বাষ্প
না বলা কথাগুলোর স্তুপের সাথে মিলে মিশে যায়।

কবে হবে সেই অযান্ত্রিক জীবনের মধুরিমাময় সঙ্গীত
ফিকে হয়ে আসা সৈকতের ম্লান ঢেউয়ের মত
গতিময় তরঙ্গের ভাঙনে ভাঙনে যে সুর লেখা আছে
জড়োসড়ো হয়ে যাবে সব,হবে সেই ঐশ্বর্যবান সুরের প্রতি অবনত।  

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

ঘাসফড়িংয়ের ডানা

বাড়ীর সামনে উঠান পেছনে নদী, অবাক কচুরিপানার পাশে ফুটে থাকা শাপলা ফুল
কত বছর আগে ফেলে আসা আমার গ্রামের স্কুল
ছোট্ট পেয়ারা গাছটার পাশে কুটোর পালা, কোল ঘেঁষে মেঠোপথ ধুলো মাটি আর ঘাস
শৈশবের খয়েরি বিকেলে মরে আসা রোদের দীর্ঘশ্বাস
তালাবদ্ধ আলমারির দুর্বোধ্য বই, ঘর গেরস্থালি দিদিমার আঁচলে থাকা চাবির গোছা
বুকের গভীরে জমে থাকা স্মৃতির ধুলো হবে না কখনো মোছা
ঘুমের ভেতরেও একটু জেগে থাকা যাত্রাপালার ঘ্রাণ, আমবাগানে নিষিদ্ধ কিছু একটা শেখা
একমাথা কালোচুলে ঢাকা সেই মুখটা শেষবার দেখা
মাতাল অন্ধকার উথাল বাতাসে বাংলার শেষ নবাব, হঠাৎ বর্ষায় পুকুরপাড়ে কইমাছের নাচ
মহোৎসবের খিচুড়ীর লতানো শক্ত ঝাঁঝ
একা একা কল্পনার পিছু পিছু ধু-ধু করা বিল, লাল নীল ডানামেলা পদ্মা ফড়িং
এত এত মানুষের কাছে জন্ম জন্মান্তরের ঋণ 
অনেক অনেক বসন্ত পেরিয়ে গেছে, ডানা মেলে এখন আর ছুটি না
শেষ একবার কি উড়ে যাব, ধরব ঘাসফড়িংয়ের ডানা?


অসমাপ্ত

জানালায় বসে থাকা রোদেপোড়া কাকের মত
বানভাসি বিলের ভিতর প্রায় ভেংগে পড়া কুঁড়েঘরের মত
নি:শব্দে সতর্কপায়ে সশংকিত হরিনীর পদচ্ছাপের মত
তোমার আমার ভেতরে রয়ে গেছে হৃদয়ছেড়া ঘূর্ণিঝড় যত।

অন্তিম শয়ানে প্রিয়জনের শেষ আর্তচিৎকারের মত
নাগরিক যানবাহনের দু:সহ ভিড়ের মত
মাঝরাতে ছুটে চলা আন্তঃনগর ট্রেনের মত
আমাদের মাঝখানে অযাচিত অপ্রস্তুত কতশত মলিন ক্ষত।

যাত্রা শুরু

এতটা সময় কেটে গেছে এইখানে, ঘর-দোর-জানালার নিষ্ঠুর অব্যবহারে
প্রতিবার আরো একাকী ভিতরে, রাত পোহালে সূর্যের আলো যায় ফিরে
চেনা অন্ধকারে খুব অচেনা ছায়া, অকপট অবয়ব, বন্দী বিষন্ন কায়া
রোদেপোড়া দুনিয়ার সেই একই চেহারা, অযথা কেন বেশভূষার মায়া
কখনো এক টুকরো জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে, কোথায় যেন একসমুদ্র ঢেউ
চোখে নেই বানভাসি জল, বুভুক্ষু হাহাকার অব্যক্ত, শুনলো না কেউ
নিয়ম করে প্রতিদিন সবাই জীবনের আয়োজনে নেমে পড়ে, নদীর বুকে জাগে চর
আগুনের হোলিখেলা শেষে, দু:স্বপ্নের ভারে জরাগ্রস্ত ঘুম নিতে চায় অবসর
পায়ের নিচে শক্ত জমিন খুঁজতেই কেটে গেল জীবনের অনেকটা সময়
কতজনে মেনে নিল নিরব পরাজয়, আমার ক্ষেত্রে যা কখনোই হবার নয়।