মগজে জট পাকিয়ে ঠেসে থাকে নষ্ট স্মৃতির বাটখারা
জগৎজুড়ে ভয়ের দাপট ছেঁয়ে যায় সাহসী বক্তাদের রক্তগঙ্গায়
ঘুমন্ত পৃথিবীভরা দানব রাতের কোলে কেউ কেউ রয়ে যায় ঘুমহারা।
কিছুটা সময়ের ছোট ছোট বিরতি নিয়ে ফিরে ফিরে পিছনে তাকানোর স্বভাবটা থেকে মুক্ত হওয়ার একটা ক্ষীণ আশা নিয়ে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির শুরু অথবা আরো স্পষ্টভাবে নিজের ভিতর লুকিয়ে থাকা এক ব্যর্থ কবির আখ্যান কাছ থেকে দেখাটাও একটা উদ্দেশ্য। নিজের কলুষিত আত্মার গভীর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করা কিছু বাঙময় অভিব্যক্তি দিয়ে সাজানো একটা কল্পলোক সৃষ্টি করাই বা কম কি এই অকবির পক্ষে?
জানালায় বসে থাকা রোদেপোড়া কাকের মত
বানভাসি বিলের ভিতর প্রায় ভেংগে পড়া কুঁড়েঘরের মত
নি:শব্দে সতর্কপায়ে সশংকিত হরিনীর পদচ্ছাপের মত
তোমার আমার ভেতরে রয়ে গেছে হৃদয়ছেড়া ঘূর্ণিঝড় যত।
অন্তিম শয়ানে প্রিয়জনের শেষ আর্তচিৎকারের মত
নাগরিক যানবাহনের দু:সহ ভিড়ের মত
মাঝরাতে ছুটে চলা আন্তঃনগর ট্রেনের মত
আমাদের মাঝখানে অযাচিত অপ্রস্তুত কতশত মলিন ক্ষত।
এতটা সময় কেটে গেছে এইখানে, ঘর-দোর-জানালার নিষ্ঠুর অব্যবহারে
প্রতিবার আরো একাকী ভিতরে, রাত পোহালে সূর্যের আলো যায় ফিরে
চেনা অন্ধকারে খুব অচেনা ছায়া, অকপট অবয়ব, বন্দী বিষন্ন কায়া
রোদেপোড়া দুনিয়ার সেই একই চেহারা, অযথা কেন বেশভূষার মায়া
কখনো এক টুকরো জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে, কোথায় যেন একসমুদ্র ঢেউ
চোখে নেই বানভাসি জল, বুভুক্ষু হাহাকার অব্যক্ত, শুনলো না কেউ
নিয়ম করে প্রতিদিন সবাই জীবনের আয়োজনে নেমে পড়ে, নদীর বুকে জাগে চর
আগুনের হোলিখেলা শেষে, দু:স্বপ্নের ভারে জরাগ্রস্ত ঘুম নিতে চায় অবসর
পায়ের নিচে শক্ত জমিন খুঁজতেই কেটে গেল জীবনের অনেকটা সময়
কতজনে মেনে নিল নিরব পরাজয়, আমার ক্ষেত্রে যা কখনোই হবার নয়।