কিছুটা সময়ের ছোট ছোট বিরতি নিয়ে ফিরে ফিরে পিছনে তাকানোর স্বভাবটা থেকে মুক্ত হওয়ার একটা ক্ষীণ আশা নিয়ে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির শুরু অথবা আরো স্পষ্টভাবে নিজের ভিতর লুকিয়ে থাকা এক ব্যর্থ কবির আখ্যান কাছ থেকে দেখাটাও একটা উদ্দেশ্য। নিজের কলুষিত আত্মার গভীর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করা কিছু বাঙময় অভিব্যক্তি দিয়ে সাজানো একটা কল্পলোক সৃষ্টি করাই বা কম কি এই অকবির পক্ষে?
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫
ঘাসফড়িংয়ের ডানা
অসমাপ্ত
জানালায় বসে থাকা রোদেপোড়া কাকের মত
বানভাসি বিলের ভিতর প্রায় ভেংগে পড়া কুঁড়েঘরের মত
নি:শব্দে সতর্কপায়ে সশংকিত হরিনীর পদচ্ছাপের মত
তোমার আমার ভেতরে রয়ে গেছে হৃদয়ছেড়া ঘূর্ণিঝড় যত।
অন্তিম শয়ানে প্রিয়জনের শেষ আর্তচিৎকারের মত
নাগরিক যানবাহনের দু:সহ ভিড়ের মত
মাঝরাতে ছুটে চলা আন্তঃনগর ট্রেনের মত
আমাদের মাঝখানে অযাচিত অপ্রস্তুত কতশত মলিন ক্ষত।
যাত্রা শুরু
এতটা সময় কেটে গেছে এইখানে, ঘর-দোর-জানালার নিষ্ঠুর অব্যবহারে
প্রতিবার আরো একাকী ভিতরে, রাত পোহালে সূর্যের আলো যায় ফিরে
চেনা অন্ধকারে খুব অচেনা ছায়া, অকপট অবয়ব, বন্দী বিষন্ন কায়া
রোদেপোড়া দুনিয়ার সেই একই চেহারা, অযথা কেন বেশভূষার মায়া
কখনো এক টুকরো জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে, কোথায় যেন একসমুদ্র ঢেউ
চোখে নেই বানভাসি জল, বুভুক্ষু হাহাকার অব্যক্ত, শুনলো না কেউ
নিয়ম করে প্রতিদিন সবাই জীবনের আয়োজনে নেমে পড়ে, নদীর বুকে জাগে চর
আগুনের হোলিখেলা শেষে, দু:স্বপ্নের ভারে জরাগ্রস্ত ঘুম নিতে চায় অবসর
পায়ের নিচে শক্ত জমিন খুঁজতেই কেটে গেল জীবনের অনেকটা সময়
কতজনে মেনে নিল নিরব পরাজয়, আমার ক্ষেত্রে যা কখনোই হবার নয়।
সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পারনি, পারবেওনা
সোমবার, ২ জুন, ২০১৪
রয়ে গেছো এখানেই
কিংবা হাতের জ্বলন্ত প্রতিটি সিগারেটে
জাদুর বাক্স আর রূপালি পর্দায়
তুমি রয়ে গেছো সবগুলো দৃশ্যপটে।
আমাদের জাগতিক অনুভূতি
মহাজাগতিক সমীকরনে
নিত্য জীবনবাসনা আর ব্যগ্র ক্রোধের অন্তরালে
তুমি এঁকে গেছো ছবি সন্তর্পণে।
ইতিহাসকেও অবলীলায় অনুভূতির বিবরে
টেনে কবিস্পর্শে দিয়েছো প্রাণ
তোমার নামে আকাশভাঙা জোছনা ঝরে
মনে পড়ে বাদল দিনের গান।
উড়ে যাও তুমি প্রাচীন কোন দেবযানে
তোমার নিজভূম সন্ধানে
জেনো তুমি তোমার মন্ত্র এখনো বাজে
প্রতিটি তরুন লেখকের কানে কানে।
(হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে)
ফাঁকা
ধ্বনিবিস্ময় ঝরে পড়ে অনবদ্য ঝংকারে
হারিয়ে যাওয়ার নিরাপদ নিশ্চয়তায়
উড়িয়ে দেই পৃথিবী কবিতার ফুঁৎকারে।
সঙ্গী হয় নতজানু গদ্য আর চিত্রকলা
মাথার থেকে পায়ে পড়া জরজর ঘাম
দুয়েকটা সংগীত আর চলচ্চিত্রের সাথে
ব্যক্ত হয় জীবন, শরীর, প্রেম ও কাম।
কতদিন ছায়া ছায়া আলো আঁধারে
একা একা বেড়াচ্ছি পায়ে হেঁটে
হাঁটতে হাঁটতে জানিনা যাওয়া যায় কতদূর
না জানি কপালে কি জোটে।
পুরোপুরি মায়াহীন এক পৃথিবীতে
কেন একা একা এই জেগে থাকা
মত্ত লোকালয়ে হাজারো মহোৎসব
তবুও আমারি হৃদয় কেন ফাঁকা।
বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩
মনে পড়ে একদিন
চেনা অচেনা আলো আঁধারে
চেরাফাটা দীর্ঘশ্বাস একটা দুটো মাঝে মাঝে ঝরে পড়ে
ঘুরঘুট্টি অন্ধকার রাতে চুপিসারে
একবারই শুধু দেখেছিলাম তোমার কোমল শুভ্র দুটি হাত
প্রথম শেখা প্রেমের ধারাপাত
দৌড়ে এসেছিলে সিঁড়ির কিনারে হঠাৎ কি যেন মনে করে
বিধাতার নিষ্ঠুর অবিচারে
হয়তোবা দেখা হয়ে যাবে একদিন এই মহানগরীর কোণঠাসা ভিড়ে
অসমাপ্ত সময়কে ঘিরে
তোমার চোখে হয়ত অবিশ্বাস, আমার নির্ঘুম চোখের নিচে দাগ
এক ফোঁটা অভিমান এক ফোঁটা রাগ।