মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

যাত্রা শুরু

এতটা সময় কেটে গেছে এইখানে, ঘর-দোর-জানালার নিষ্ঠুর অব্যবহারে
প্রতিবার আরো একাকী ভিতরে, রাত পোহালে সূর্যের আলো যায় ফিরে
চেনা অন্ধকারে খুব অচেনা ছায়া, অকপট অবয়ব, বন্দী বিষন্ন কায়া
রোদেপোড়া দুনিয়ার সেই একই চেহারা, অযথা কেন বেশভূষার মায়া
কখনো এক টুকরো জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে, কোথায় যেন একসমুদ্র ঢেউ
চোখে নেই বানভাসি জল, বুভুক্ষু হাহাকার অব্যক্ত, শুনলো না কেউ
নিয়ম করে প্রতিদিন সবাই জীবনের আয়োজনে নেমে পড়ে, নদীর বুকে জাগে চর
আগুনের হোলিখেলা শেষে, দু:স্বপ্নের ভারে জরাগ্রস্ত ঘুম নিতে চায় অবসর
পায়ের নিচে শক্ত জমিন খুঁজতেই কেটে গেল জীবনের অনেকটা সময়
কতজনে মেনে নিল নিরব পরাজয়, আমার ক্ষেত্রে যা কখনোই হবার নয়।

সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পারনি, পারবেওনা

ভেবেছিলে তুমিও কোনদিন কাঁদামাটি জলে ভিজে
হয়ে যাবে একাকার
অজস্র স্বপ্নের ডানামেলা আকাশে হাত পা ছেড়েছুড়ে
জুড়ে দেবে চিৎকার
ভেবেছিলে কোনদিন কেউ খুঁজে হদিস পাবে না
তোমার টিকিটিরও 
রাত জেগে তারাজ্বলা আকাশে সোজাসুজি তাকিয়ে হঠাৎ করেই 
পেয়ে যেতে পার বিরহের প্রতিকার।

একবারও তাকিয়ে দেখনি পেছনে রয়েছে পড়ে
তোমারই হাতে গড়া, তোমারই মনে পোড়া 
অগুনতি ছাইচাপা অনুভূতির দেয়াল,
আজ তুমি যত বৃক্ষলতায় আর ঘুলঘুলিতে
আনকোরা স্বপ্নের বীজতলা বানাও গোপনে
ক্রমে ক্রমে হও যতই শখের ছবিয়াল,

পারনি তুমি, পারবেনা কেউ এমনকি স্বপ্নেও যা ভেবেছিলে
উল্টোরথে তুমি একান্ত পার্থিব যাত্রাপথে মরছ তিলে তিলে। 

সোমবার, ২ জুন, ২০১৪

রয়ে গেছো এখানেই

বেকার ঘরভরন্ত ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে
কিংবা হাতের জ্বলন্ত প্রতিটি সিগারেটে
জাদুর বাক্স আর রূপালি পর্দায়
তুমি রয়ে গেছো সবগুলো দৃশ্যপটে।

আমাদের জাগতিক অনুভূতি
মহাজাগতিক সমীকরনে
নিত্য জীবনবাসনা আর ব্যগ্র ক্রোধের অন্তরালে
তুমি এঁকে গেছো ছবি সন্তর্পণে।

ইতিহাসকেও অবলীলায় অনুভূতির বিবরে
টেনে কবিস্পর্শে দিয়েছো প্রাণ
তোমার নামে আকাশভাঙা জোছনা ঝরে
মনে পড়ে বাদল দিনের গান।

উড়ে যাও তুমি প্রাচীন কোন দেবযানে
তোমার নিজভূম সন্ধানে
জেনো তুমি তোমার মন্ত্র এখনো বাজে
প্রতিটি তরুন লেখকের কানে কানে।







(হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে) 

ফাঁকা

কঠিনতর হয়ে পড়ে সবকিছু
ধ্বনিবিস্ময় ঝরে পড়ে অনবদ্য ঝংকারে
হারিয়ে যাওয়ার নিরাপদ নিশ্চয়তায়
উড়িয়ে দেই পৃথিবী কবিতার ফুঁৎকারে।

সঙ্গী হয় নতজানু গদ্য আর চিত্রকলা
মাথার থেকে পায়ে পড়া জরজর ঘাম
দুয়েকটা সংগীত আর চলচ্চিত্রের সাথে
ব্যক্ত হয় জীবন, শরীর, প্রেম ও কাম।

কতদিন ছায়া ছায়া আলো আঁধারে
একা একা বেড়াচ্ছি পায়ে হেঁটে
হাঁটতে হাঁটতে জানিনা যাওয়া যায় কতদূর
না জানি কপালে কি জোটে।

পুরোপুরি মায়াহীন এক পৃথিবীতে
কেন একা একা এই জেগে থাকা
মত্ত লোকালয়ে হাজারো মহোৎসব
তবুও আমারি হৃদয় কেন ফাঁকা।

বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩

মনে পড়ে একদিন

কখনো কখনো পরতে পরতে মিথ্যে দিয়ে সাজানো দেয়াল ধ্বসে পড়ে
চেনা অচেনা আলো আঁধারে
চেরাফাটা দীর্ঘশ্বাস একটা দুটো মাঝে মাঝে ঝরে পড়ে
ঘুরঘুট্টি অন্ধকার রাতে চুপিসারে
একবারই শুধু দেখেছিলাম তোমার কোমল শুভ্র দুটি হাত
প্রথম শেখা প্রেমের ধারাপাত
দৌড়ে এসেছিলে সিঁড়ির কিনারে হঠাৎ কি যেন মনে করে
বিধাতার নিষ্ঠুর অবিচারে
হয়তোবা দেখা হয়ে যাবে একদিন এই মহানগরীর কোণঠাসা ভিড়ে
অসমাপ্ত সময়কে ঘিরে
তোমার চোখে হয়ত অবিশ্বাস, আমার নির্ঘুম চোখের নিচে দাগ
এক ফোঁটা অভিমান এক ফোঁটা রাগ।

সোমবার, ৭ মে, ২০১২

নিহত কবি

একজন কবি দুইজন কবি
বহু বহু কবি নিহত আজ
পৃথিবীর এই বহুজাতিক স্লোগানে

নেই কোন পদচ্ছাপ রেখে যাওয়া ভুলে
নিহত কবিরা সব কলম নিয়েছে তুলে

আকাশে বাতাসে ভারী দীর্ঘশ্বাস
দপদপে শিখা হয়ে কাঁপে
রমরমে ব্যানারে, পোস্টারে দেয়ালেরা রঙিন জলছাপে

কখনো যদি কবির মৃত্যু হয় এই ষ্টীমরোলারে
স্বপ্ন চুরি যায় সিঁধকাটা আঁধারে
আমি ও আমরা আসব কোন এক চুপিসারে।

সব কিছু ভেঙে পড়ে

শ্রম আর ঘাম, প্রেম আর কাম
উল্লসিত রক্তস্রোত, নির্বাপিত দেহরস
প্রতিহিংসা ঘৃণা এমনকি ক্রোধ
আচমকা ভয়, প্রতিরোধ সান্ত্বনা
                                   
সব কিছু ভেঙে পড়ে।

দিন আর রাত, নির্ঘুম অপরাধ
বানোয়াট রূপকথা, নির্লজ্জ জ্বালিয়াত
জীবন্ত কিংবা মৃত, জ্বলন্ত ধ্বংসস্তুপ থেকে
অগুনতি শুঁয়োপোকা আর জাতশকুনের দল

লঙ্ঘিত সীমানা আর দুমড়ানো মুচড়ানো বাঁধ
নগ্ন অনাবিল জলস্রোত, রাশি রাশি বীজ
ব্যর্থ চাষবাস, অনুর্বর বাঁজা ভূমি
অক্লান্ত প্রতিশ্রুতি আর অবিশ্রাম ছন্দপতন

সলজ্জ শিহরন কিংবা নির্দোষ ইচ্ছা
শ্রমে,ঘামে,প্রেমে,কামে বেড়ে ওঠা
নির্দয় নিষ্ঠুর বিকেলের মরে যাওয়া আলোয়
যাপিত জীবনের প্রতি থান ইটের মত করে

সব কিছু ভেঙে পড়ে।









১৪।০১।২০১২