সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পারনি, পারবেওনা

ভেবেছিলে তুমিও কোনদিন কাঁদামাটি জলে ভিজে
হয়ে যাবে একাকার
অজস্র স্বপ্নের ডানামেলা আকাশে হাত পা ছেড়েছুড়ে
জুড়ে দেবে চিৎকার
ভেবেছিলে কোনদিন কেউ খুঁজে হদিস পাবে না
তোমার টিকিটিরও 
রাত জেগে তারাজ্বলা আকাশে সোজাসুজি তাকিয়ে হঠাৎ করেই 
পেয়ে যেতে পার বিরহের প্রতিকার।

একবারও তাকিয়ে দেখনি পেছনে রয়েছে পড়ে
তোমারই হাতে গড়া, তোমারই মনে পোড়া 
অগুনতি ছাইচাপা অনুভূতির দেয়াল,
আজ তুমি যত বৃক্ষলতায় আর ঘুলঘুলিতে
আনকোরা স্বপ্নের বীজতলা বানাও গোপনে
ক্রমে ক্রমে হও যতই শখের ছবিয়াল,

পারনি তুমি, পারবেনা কেউ এমনকি স্বপ্নেও যা ভেবেছিলে
উল্টোরথে তুমি একান্ত পার্থিব যাত্রাপথে মরছ তিলে তিলে। 

সোমবার, ২ জুন, ২০১৪

রয়ে গেছো এখানেই

বেকার ঘরভরন্ত ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে
কিংবা হাতের জ্বলন্ত প্রতিটি সিগারেটে
জাদুর বাক্স আর রূপালি পর্দায়
তুমি রয়ে গেছো সবগুলো দৃশ্যপটে।

আমাদের জাগতিক অনুভূতি
মহাজাগতিক সমীকরনে
নিত্য জীবনবাসনা আর ব্যগ্র ক্রোধের অন্তরালে
তুমি এঁকে গেছো ছবি সন্তর্পণে।

ইতিহাসকেও অবলীলায় অনুভূতির বিবরে
টেনে কবিস্পর্শে দিয়েছো প্রাণ
তোমার নামে আকাশভাঙা জোছনা ঝরে
মনে পড়ে বাদল দিনের গান।

উড়ে যাও তুমি প্রাচীন কোন দেবযানে
তোমার নিজভূম সন্ধানে
জেনো তুমি তোমার মন্ত্র এখনো বাজে
প্রতিটি তরুন লেখকের কানে কানে।







(হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে) 

ফাঁকা

কঠিনতর হয়ে পড়ে সবকিছু
ধ্বনিবিস্ময় ঝরে পড়ে অনবদ্য ঝংকারে
হারিয়ে যাওয়ার নিরাপদ নিশ্চয়তায়
উড়িয়ে দেই পৃথিবী কবিতার ফুঁৎকারে।

সঙ্গী হয় নতজানু গদ্য আর চিত্রকলা
মাথার থেকে পায়ে পড়া জরজর ঘাম
দুয়েকটা সংগীত আর চলচ্চিত্রের সাথে
ব্যক্ত হয় জীবন, শরীর, প্রেম ও কাম।

কতদিন ছায়া ছায়া আলো আঁধারে
একা একা বেড়াচ্ছি পায়ে হেঁটে
হাঁটতে হাঁটতে জানিনা যাওয়া যায় কতদূর
না জানি কপালে কি জোটে।

পুরোপুরি মায়াহীন এক পৃথিবীতে
কেন একা একা এই জেগে থাকা
মত্ত লোকালয়ে হাজারো মহোৎসব
তবুও আমারি হৃদয় কেন ফাঁকা।